কণিকা ৥ সাগর আল হেলাল


 




অণুগল্প ৥ কণিকা
- সাগর আল হেলাল
---------------
কণিকা আমার ফুফাতো বোন। ওর মেয়ে ভিকারুন্নেছা নুন স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দিচ্ছে। ঢাকায় সেটেল হতে চায় ওরা। এ উপলক্ষ্যেই এসেছে আমার বাসায়। ছেলেবেলায় ওর সাথে আমার একটু ইয়ে ছিলো আর কি। বৌকে একবার আবেগের বশবর্তী হয়ে বলেছিলাম। ওকে কিছুতেই বিশ্বাস করাতে পারিনি যে, সম্পর্কটা অতো গভীর ছিলো না। ও বিশ্বাস করে নি।
কণিকার মেয়েকে বুকে নিয়ে সাদিয়া মানে আমার বৌ শুয়ে পরেছে। কণিকারা আসার পর থেকেই সে একটু অন্যরকম আচরণ করছে বটে, তবে- কণিকা ও তার বাচ্চাকে খুব খাতির যত্ন করছে। আমি ও কণিকা দুজন ঘরের মেঝেতে বসে কথা বলছিলাম। বিদ্যুৎ ছিলো না। কিন্তু জানলা দিয়ে রাস্তার রোড লাইটের আলো পরাতে ঘরের মধ্যে আবছা অন্ধকার অন্ধকার অবস্থা ছিলো। ঘরের মধ্যে ছায়ার মতো সবই দেখা যাচ্ছিলো। বৌ আমাকে কণিকার সাথে গল্পে বসিয়ে কণিকার মেয়েকে নিয়ে শুয়ে পড়েছে। একটু গোয়েন্দাগীরি করতে চায় আর কী !
কণিকা পিঠের নিচে বালিশ দিয়ে সোফার সাথে হেলান দিয়ে বসা। বাইরের আলো- নীল রঙের ফ্রিজের উপর পড়ে তার প্রতিবিম্ব পড়ছিলো কণিকার মুখে। অনেক সুন্দর লাগছিলো ওকে। আমার বৌয়ের আচরণ সে-ও হয়তো কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলো, বেশি কথা বলছিলো না। ও কেবল হ্যাঁ, না বলছিলো। যা বলার আমিই বলছিলাম। হারিয়ে যাচ্ছিলাম কৈশোরে।
কণিকার মুখে হঠাৎ অস্পষ্ট একটা আওয়াজ শুনতে পেলাম, সা---প। মনে হলো কণিকা মুর্ছা গিয়ে সোফার শরীর থেকে পিছলে মেঝেতে পড়ে যাচ্ছে। আমি সাপের ভয় না করে বা তার খোঁজ না করে কণিকার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম। টেনে সোজা দাঁড় করানোর চেষ্টা করতে লাগলাম। প্রচণ্ড ভয় পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে সে।
জীবনে এই প্রথম কণিকার শরীরের স্পর্শ পেলাম। ও যেনো নদী হয়ে সমুদ্রে আত্মসমর্পন করেছে। মিশে যেতে চাইলো ওর শরীর আমার মধ্যে। আমি ওর চিবুক ধরে বার বার ডেকেই চলেছি- কণিকা, কণিকা, কণি- । পায়ে ঠাণ্ডা পানির স্পর্শ পেলাম। সাদিয়া উঠে পড়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎও চলে এসেছে। বিছানার দিকে ফিরে যেতে যেতে সে বলে উঠলো- ঢঙ !
-
সাগর আল হেলাল
২১.০৯.২০২২

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ